ঢাকা , শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু, বর্ণাঢ্য উদ্বোধনী আয়োজন নওগাঁর মহাদেবপুরে নিজ বাড়ি থেকে স্বামী-স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার জিন্দা পীরের মাজারে মানত শেষে নদীতে ডুবে গৃহবধূর মৃত্যু মান্দার কৃতি সন্তান ইকবাল হাসান ৪৭তম বিসিএসে পুলিশ ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত ক্যাডেট এএসআই (নিরস্ত্র) নিয়োগ-২০২৬: নওগাঁয় প্রথম দিনের কার্যক্রম সম্পন্ন নওগাঁর রানীনগরে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে তিন দস্যু গ্রেপ্তার, উদ্ধার মোটরসাইকেল-ছুরি-মোবাইল মাদক, বাল্যবিবাহ ও সাইবার ক্রাইম রুখতে ছাত্রীদের সচেতন হওয়ার আহ্বান নওগাঁর পুলিশ সুপারের শহরে এআই নজরদারি, অপরাধ দমনে নতুন উদ্যোগ,স্মার্ট নিরাপত্তা ব্যবস্থার পথে নওগাঁ নওগাঁয় জমি দখলের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন, প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ ও নিরাপত্তা দাবি নওগাঁয় আত্মহত্যা বলে চালানো হত্যাকান্ডের রহস্য উন্মোচন, স্বামীর স্বীকারোক্তি
নোটিশ :
সারাদেশে বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে, আগ্রহীরা আজই যোগাযোগ করুন ০১৭১১৭২৯২২৪

নওগাঁয় আত্মহত্যা বলে চালানো হত্যাকান্ডের রহস্য উন্মোচন, স্বামীর স্বীকারোক্তি

নওগাঁর মহাদেবপুরে গৃহবধূ নাজমা খাতুন (২৪)-এর মৃত্যুর ঘটনায় দীর্ঘ আট মাস পর চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে। আত্মহত্যা হিসেবে প্রচার করা হলেও সিআইডির তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে, এটি ছিল একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। এ ঘটনায় নিহতের স্বামী ময়জুল ইসলাম আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।
মঙ্গলবার (৯ জুন) নওগাঁ সিআইডির পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
নিহত নাজমা খাতুন মহাদেবপুর উপজেলার ভীমপুর ইউনিয়নের পাতনা গ্রামের বাসিন্দা এবং ময়জুল ইসলামের স্ত্রী।
মামলার সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ২ অক্টোবর সন্ধ্যায় শ্বশুরবাড়িতে নাজমা খাতুনের মৃত্যু হয়। ঘটনার পর স্বামী ময়জুল ইসলাম ও তার পরিবারের সদস্যরা নাজমার স্বজনদের জানান, তিনি ঘরের তীরের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। পরে নাজমার ভাই মো. শাহিন বাদী হয়ে মহাদেবপুর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন।
তদন্ত শেষে থানা পুলিশ আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করলেও এতে সন্তুষ্ট না হয়ে বাদী আদালতে নারাজি আবেদন করেন। আদালত মামলাটির অধিকতর তদন্তের দায়িত্ব সিআইডির নওগাঁ ইউনিটকে প্রদান করেন।
সিআইডির তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক মো. মজিবর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন, আলামত বিশ্লেষণ এবং আসামির গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করে ঘটনাটিতে বেশ কিছু অসঙ্গতি খুঁজে পান। তদন্তের একপর্যায়ে এটি হত্যাকাণ্ড বলে সন্দেহ হলে আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করা হয়। আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
রিমান্ডে সিআইডির জিজ্ঞাসাবাদের মুখে ময়জুল ইসলাম তার স্ত্রীকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার কথা স্বীকার করেন। পরে তিনি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বেচ্ছায় দোষ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
নওগাঁ সিআইডির পুলিশ সুপার সাবের রেজা আহমেদ বলেন, গোপন তথ্য ও স্থানীয় সূত্রের ভিত্তিতে ঘটনাটি হত্যাকাণ্ড বলে সন্দেহ হয়। তদন্তে পাওয়া তথ্য-প্রমাণ এবং জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে আসামি হত্যার বিষয়টি স্বীকার করেন।
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মামলার পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপলোডকারীর তথ্য

নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু, বর্ণাঢ্য উদ্বোধনী আয়োজন

নওগাঁয় আত্মহত্যা বলে চালানো হত্যাকান্ডের রহস্য উন্মোচন, স্বামীর স্বীকারোক্তি

আপডেট সময় ১২:২১:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

নওগাঁর মহাদেবপুরে গৃহবধূ নাজমা খাতুন (২৪)-এর মৃত্যুর ঘটনায় দীর্ঘ আট মাস পর চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে। আত্মহত্যা হিসেবে প্রচার করা হলেও সিআইডির তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে, এটি ছিল একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। এ ঘটনায় নিহতের স্বামী ময়জুল ইসলাম আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।
মঙ্গলবার (৯ জুন) নওগাঁ সিআইডির পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
নিহত নাজমা খাতুন মহাদেবপুর উপজেলার ভীমপুর ইউনিয়নের পাতনা গ্রামের বাসিন্দা এবং ময়জুল ইসলামের স্ত্রী।
মামলার সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ২ অক্টোবর সন্ধ্যায় শ্বশুরবাড়িতে নাজমা খাতুনের মৃত্যু হয়। ঘটনার পর স্বামী ময়জুল ইসলাম ও তার পরিবারের সদস্যরা নাজমার স্বজনদের জানান, তিনি ঘরের তীরের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। পরে নাজমার ভাই মো. শাহিন বাদী হয়ে মহাদেবপুর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন।
তদন্ত শেষে থানা পুলিশ আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করলেও এতে সন্তুষ্ট না হয়ে বাদী আদালতে নারাজি আবেদন করেন। আদালত মামলাটির অধিকতর তদন্তের দায়িত্ব সিআইডির নওগাঁ ইউনিটকে প্রদান করেন।
সিআইডির তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক মো. মজিবর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন, আলামত বিশ্লেষণ এবং আসামির গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করে ঘটনাটিতে বেশ কিছু অসঙ্গতি খুঁজে পান। তদন্তের একপর্যায়ে এটি হত্যাকাণ্ড বলে সন্দেহ হলে আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করা হয়। আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
রিমান্ডে সিআইডির জিজ্ঞাসাবাদের মুখে ময়জুল ইসলাম তার স্ত্রীকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার কথা স্বীকার করেন। পরে তিনি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বেচ্ছায় দোষ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
নওগাঁ সিআইডির পুলিশ সুপার সাবের রেজা আহমেদ বলেন, গোপন তথ্য ও স্থানীয় সূত্রের ভিত্তিতে ঘটনাটি হত্যাকাণ্ড বলে সন্দেহ হয়। তদন্তে পাওয়া তথ্য-প্রমাণ এবং জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে আসামি হত্যার বিষয়টি স্বীকার করেন।
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মামলার পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।