নওগাঁর রানীনগরে ইসলামী ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের ৩৪ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় ব্যাংকের তিন কর্মীসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা পুলিশ। এ সময় ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল, একটি আইফোনসহ সাতটি মোবাইল ফোন এবং লুণ্ঠিত টাকার মধ্যে ১ লাখ ৪২ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, গত ৬ অক্টোবর দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটের দিকে রানীনগর উপজেলার পারইল বাজার পার হয়ে বাংলালিংক টাওয়ারের সামনে এ ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। ইসলামী ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের ক্যাশিয়ার নাজমুল ও অফিস সহায়ক রাসেল মোটরসাইকেলে করে ৩৪ লাখ টাকা নিয়ে আবাদপুকুর বাজারের অফিসে যাচ্ছিলেন। পথে পেছন থেকে একটি মোটরসাইকেলে আসা দুর্বৃত্তরা তাঁদের পথরোধ করে লোহার পাইপ দিয়ে মারধর করে টাকা নিয়ে পালিয়ে যায়। এতে ক্যাশিয়ার নাজমুল আহত হন।
ঘটনার পর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও রানীনগর থানা পুলিশ অভিযান শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষণ ও বিভিন্ন তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে প্রথমে ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত রেজিস্ট্রেশনবিহীন মোটরসাইকেল জব্দ এবং এর মালিক রাব্বি আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পরদিন ৭ অক্টোবর জয়পুরহাটের আক্কেলপুর ও দিনাজপুরে অভিযান চালিয়ে দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ থানা এলাকা থেকে স্বপন (২৮) ও হাসান আলীকে (২৫) গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ৮ অক্টোবর রানীনগর এলাকায় অভিযান চালিয়ে ইসলামী ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের আরও তিন কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—স্বপন, হাসান আলী, রাব্বি আলী, রাসেল বাবু (২২), সুজন (২৭) ও আবু তালেব (২২)। তাঁদের মধ্যে রাসেল বাবু অফিস সহায়ক এবং সুজন ও আবু তালেব ঋণ কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, ব্যাংকের তিন কর্মী রাসেল বাবু, সুজন ও আবু তালেব অনলাইন জুয়ায় অংশ নিয়ে প্রায় ৭ থেকে ৮ লাখ টাকা হারান। অভিযোগ রয়েছে, তাঁরা বিভিন্ন গ্রাহকের টাকা ব্যাংকে জমা না দিয়ে অনলাইন জুয়ায় ব্যবহার করে হারিয়ে ফেলেন। এরপর ওই ঘাটতি পূরণ ও টাকা ভাগ করে নেওয়ার উদ্দেশ্যে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মালিক ফিরোজ হোসেনের ৩৪ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করেন।

তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, পরিকল্পনার অংশ হিসেবে রাসেল বাবু টাকা সংগ্রহের সময় ক্যাশিয়ার নাজমুলের সঙ্গে যান এবং পথিমধ্যে অন্যদের কাছে তাঁদের অবস্থানের তথ্য দিতে থাকেন। নির্ধারিত স্থানে পৌঁছালে স্বপন, হাসানসহ অন্যরা তাঁদের পথরোধ করে টাকা ছিনিয়ে নেন। পুলিশের দাবি, এ ঘটনায় রাসেল বাবু নিজেকে ভুক্তভোগী হিসেবে উপস্থাপন করলেও তিনি পরিকল্পনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
পুলিশ আরও জানায়, ছিনতাইয়ের পর স্বপন ও হাসানকে প্রাথমিকভাবে দেড় লাখ টাকা দিয়ে নওগাঁ ছেড়ে পালিয়ে যেতে বলা হয়। পরে তাঁরা জয়পুরহাট হয়ে দিনাজপুরে চলে যান। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ১ লাখ ৪২ হাজার টাকা।
নওগাঁ জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এ ঘটনায় জড়িত অন্য পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার এবং লুণ্ঠিত বাকি টাকা উদ্ধারে অভিযান ও তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।