নওগাঁ জেলা পুলিশের বিশেষ মাদকবিরোধী অভিযানে ৯০ কেজি শুকনা গাঁজা উদ্ধার এবং দুই মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত গাঁজার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৪০ লাখ টাকা বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ৬ জুন পাড়ইল ইউনিয়নে ট্রান্সফরমার চুরির একটি ঘটনার তদন্ত করতে গিয়ে নতুন তথ্যের সন্ধান পায় নিয়ামতপুর থানা পুলিশ। তদন্তের ধারাবাহিকতায় ৭ জুন রাতে সন্দেহভাজন হামেদুল ইসলামকে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তার কথাবার্তা সন্দেহজনক মনে হলে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তাকে ব্যাপকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে তিনি মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন।
এরপর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের নির্দেশনায় নিয়ামতপুর থানার অফিসার ইনচার্জের নেতৃত্বে একটি বিশেষ দল ৮ জুন মধ্যরাতের পর উপজেলার ৬ নম্বর পাড়ইল ইউনিয়নের তুলার বাঐল গ্রামের একটি বসতবাড়িতে অভিযান চালায়। রাত ১২টা ৫ মিনিট থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত পরিচালিত এ অভিযানে ৯০ কেজি শুকনা গাঁজা উদ্ধার করা হয় এবং দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন হামেদুল ইসলাম (৩৫) ও রশিদ (৪৪)। তাদের বাড়ি তুলার বাঐল গ্রামে।
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে ট্রাক ও হাইএস মাইক্রোবাসযোগে গাঁজা এনে ওই বাড়ির দোতলা মাটির ভবনে মজুদ রাখা হতো। ভবনটি মূলত মাদকের গুদাম হিসেবে ব্যবহৃত হতো। এখান থেকে নওগাঁ জেলার বিভিন্ন এলাকা ছাড়াও পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোতে পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে গাঁজা সরবরাহ করা হতো।
এছাড়া গ্রেফতারকৃতরা স্বীকার করেছেন, সীমান্ত ও অন্যান্য স্থান থেকে একাধিকবার গাঁজা সংগ্রহ করে সেখানে মজুদ রাখা হয়েছে। প্রতি ৩০ কেজি গাঁজা সংরক্ষণের জন্য বাড়ির মালিক হামেদুল ৫ হাজার টাকা করে পেতেন বলেও তারা জানিয়েছেন।
ঘটনার বিষয়ে নিয়ামতপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই মাদক চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্য সদস্যদের শনাক্ত করতে পুলিশ তদন্ত অব্যাহত রেখেছে।
এ বিষয়ে নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, “নওগাঁ জেলা পুলিশ মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে। মাদক নির্মূলে আগামী দিনগুলোতে আরও জোরালো অভিযান পরিচালনা করা হবে।”