নওগাঁ সদর উপজেলার হাপানিয়া ইউনিয়নে পুলিশ ও স্থানীয় জনগণের যৌথ উদ্যোগে ছিনতাইচেষ্টা নস্যাৎ করা হয়েছে। এ ঘটনায় দুই ছিনতাইকারীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাদের কাছ থেকে ছিনতাই হওয়া টাকা, মোবাইল ফোন, একটি ধারালো চাকু এবং ব্যবহৃত চার্জারচালিত রিকশা জব্দ করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মহাদেবপুর উপজেলার হাতিমনডোলা গ্রামের বাসিন্দা মেহেদী হাসান (২৩) বুধবার রাতে মামার সঙ্গে দেখা করতে নওগাঁ সদর উপজেলার দুবলহাটি মোড়ে আসেন। কাজ শেষে রাত প্রায় ৯টা ৪০ মিনিটে তার মামা সাগর তাকে হাপানিয়া যাওয়ার জন্য একটি চার্জারচালিত রিকশায় তুলে দেন।
পথিমধ্যে দুবলহাটি ইন্টিতলা মোড়ে পৌঁছালে এক ব্যক্তি রিকশায় ওঠার জন্য রিকশাটি থামায়। মেহেদী আপত্তি জানালে ওই ব্যক্তি নিজেকে চালকের বন্ধু পরিচয় দিয়ে অল্প দূরে নেমে যাওয়ার কথা বলে রিকশায় ওঠে। এরপর চালক নির্ধারিত সড়ক ছেড়ে অন্য পথে যেতে শুরু করলে মেহেদীর সন্দেহ হয়।
একপর্যায়ে রাত আনুমানিক ১০টা ৪৫ মিনিটে হাপানিয়া ইউনিয়নের শতপুর-পুটিমারী পাকা সড়কে পৌঁছালে মেহেদী প্রস্রাব করার কথা বলে রিকশা থেকে নামেন। এ সময় রিকশাচালক ও তার সহযোগী তাকে ধরে ফেলে। পরে রিকশার সিটের নিচে রাখা একটি ধারালো চাকু বের করে প্রাণনাশের ভয় দেখিয়ে তার ওয়ালেটে থাকা ৫ হাজার টাকা এবং একটি সিম্ফনি বাটন মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়।
মেহেদী হাসান চিৎকার করলে আশপাশের স্থানীয় লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এসে দুই ছিনতাইকারীকে ঘেরাও করে এবং পুলিশে খবর দেয়।
সংবাদ পেয়ে নওগাঁ সদর থানা পুলিশ রাত ১১টা ২০ মিনিটে ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত মো. সুলতান শাহরিয়ার ওরফে দেওয়ান সিফাত (২০) এবং মো. আব্দুল ওয়াহেদকে (২৪) গ্রেফতার করে।
পুলিশ তাদের হেফাজত থেকে ছিনতাই হওয়া নগদ টাকা, মোবাইল ফোন, ছিনতাইয়ের কাজে ব্যবহৃত ধারালো চাকু এবং চার্জারচালিত রিকশা উদ্ধার করে জব্দ করেছে।
নওগাঁ সদর থানা পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। স্থানীয়রা পুলিশ ও জনগণের সমন্বিত এই তৎপরতার প্রশংসা করেছেন।