আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ৪৬তম জাতীয় সমাবেশ-২০২৬ যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপিত হচ্ছে। এ উপলক্ষে বাহিনীর সকল পর্যায়ের কর্মকর্তা, কর্মচারী এবং তৃণমূলের অকুতোভয় আনসার-ভিডিপি সদস্য-সদস্যাদের আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে।
মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী বাহিনীর ৬৭০ জন শহিদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানিয়ে বলা হয়, দেশের যেকোনো প্রয়োজনে আনসার ও ভিডিপি সদস্যদের সময়োপযোগী ভূমিকা সর্বদা উল্লেখযোগ্য।
বিশেষ করে গত ফেব্রুয়ারি মাসে সারাদেশে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ পরিবেশ বজায় রাখতে বাহিনী যে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেছে, তার প্রশংসা করা হয়।
বক্তব্যে বলা হয়, দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় ধরে ফ্যাসিবাদী শাসনের পর বাংলাদেশ গণতন্ত্রের পথে যাত্রা শুরু করেছে। সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার লক্ষ্যে বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার কাজ করছে। একটি স্বনির্ভর, মানবিক ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ার এই যাত্রায় আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর গুরুত্ব অপরিসীম।
স্বাধীনতার ঘোষক শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের গর্বিত উচ্চারণ “আমাদের হাত কোটি হাতিয়ার, অঙ্গীকার আমাদের দেশ গড়বার”—এই চেতনায় গড়ে ওঠা বাহিনীর প্রান্তিক পর্যায় পর্যন্ত বিস্তৃত সাংগঠনিক কাঠামো গ্রাম ও শহরে সুরক্ষিত সমাজ কাঠামো গঠন, মৌলিক অধিকার নিশ্চিতকরণ এবং বহুবিধ সেবা কার্যক্রম বাস্তবায়নে সরকারের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে কাজ করছে।
বৃক্ষরোপণ, বিজ্ঞানভিত্তিক পরিবেশ সুরক্ষা, খাল খন, দুর্যোগপ্রবণ এলাকায় বন্যা থেকে সুরক্ষা, পানিসম্পদ পরিকল্পনা, খাদ্য নিরাপত্তা ও পুনর্বাসনের মতো কার্যক্রমে আনসার-ভিডিপির বিস্তৃত নেটওয়ার্ক কার্যকর ভূমিকা রাখছে।
বর্তমানে শিল্প-কারখানা, হাসপাতাল ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসহ রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় নিরাপত্তা নিশ্চিতে ৫২ হাজারের বেশি অঙ্গীভূত আনসার সদস্য নিয়োজিত রয়েছেন। একইসঙ্গে যুবসমাজকে দক্ষ উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে বাহিনী চাহিদাভিত্তিক প্রশিক্ষণ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক পদক্ষেপ নিয়েছে, যা স্বনির্ভরতা ও কর্মসংস্থানের নতুন মডেল সৃষ্টি করছে।
বক্তব্যে আশা প্রকাশ করা হয়, দেশপ্রেমের মন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে আনসার-ভিডিপির ৬০ লাখ সদস্যের সাহস ও নিষ্ঠা বৈষম্যমুক্ত ও ন্যায়ভিত্তিক নিরাপদ সমাজ বিনির্মাণে আগামী দিনের পাথেয় হবে। বাহিনীর উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি কামনা করে দেশ গড়ার পবিত্র দায়িত্বে তাদের সাহসী ও কার্যকর ভূমিকার প্রতি পূর্ণ আস্থা ব্যক্ত করা হয়।