কোনো প্রকার ঘুষ, সুপারিশ কিংবা দালালের খপ্পরে না পড়ে সম্পূর্ণ মেধা, যোগ্যতা ও স্বচ্ছতার ভিত্তিতে বাংলাদেশ পুলিশে ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) পদে নিয়োগ পেয়েছেন নওগাঁ জেলার ৪৯ জন তরুণ-তরুণী। চূড়ান্তভাবে মনোনীত প্রার্থীদের চাকরি প্রাপ্তির সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সরকারি ফি বাবদ খরচ হয়েছে মাত্র ১২০ টাকা। সম্পূর্ণ নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে নিজ মেধা ও যোগ্যতার জোরে বাংলাদেশ পুলিশের গর্বিত সদস্য হতে পেরে আনন্দে আত্মহারা হয়ে পড়েছেন উত্তীর্ণ প্রার্থীরা।

গত রবিবার (১৭ মে ২০২৬) নওগাঁ পুলিশ লাইন্স ড্রিলশেডে নতুন চাকরি পাওয়া এসব তরুণ-তরুণীর পরীক্ষার চূড়ান্ত ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়। ফলাফল ঘোষণা করেন নিয়োগ বোর্ডের সভাপতি ও নওগাঁ জেলার পুলিশ সুপার জনাব মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম।
নওগাঁ জেলায় ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) পদে নিয়োগের এই সুদীর্ঘ ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়াটি কয়েকটি ধাপে সম্পন্ন হয়:
গত ১৮ এপ্রিল সকাল ৮টা থেকে নিয়োগ কার্যক্রম শুরু হয়। শারীরিক যোগ্যতা ও অন্যান্য ধাপ পেরিয়ে গত ৪ মে অনুষ্ঠিত লিখিত পরীক্ষায় জেলার বিভিন্ন উপজেলার ৬৬৫ জন তরুণ-তরুণী অংশগ্রহণ করেন।
১৭ মে (রবিবার) সকাল ১০টায় লিখিত পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয়, যাতে ১১৭ জন প্রার্থী উত্তীর্ণ হন। পরবর্তীতে উত্তীর্ণ প্রার্থীরা মনস্তাত্ত্বিক ও মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেন।
নিজেদের মেধা, যোগ্যতা ও সক্ষমতার স্বাক্ষর রেখে শেষ পর্যন্ত ৪৯ জন প্রার্থী নিয়োগ বোর্ড কর্তৃক চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হন।
ফলাফল ঘোষণার সময় আরও উপস্থিত ছিলেন ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টার রাজশাহীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (পুলিশ সুপার পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত) জনাব কামরুন নাহার, জয়পুরহাট সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জনাব মোঃ আরিফ হোসেন এবং নওগাঁ জেলা পুলিশের সকল স্তরের সদস্যবৃন্দ।
নিয়োগ বোর্ডের সভাপতি ও পুলিশ সুপার জনাব মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ ৪৯ জন তরুণ-তরুণীকে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান এবং বাংলাদেশ পুলিশে স্বাগত জানান।
পুলিশ সুপার তারিকুল ইসলাম বলেন ”টাকা কিংবা তদবির নয়, মেধার ভিত্তিতেই আজ এই তরুণ-তরুণীরা বাংলাদেশ পুলিশের অংশ হয়েছেন। আমরা বিশ্বাস করি, সম্পূর্ণ স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় আসা এই নতুন সদস্যরা সততা ও নিষ্ঠার সাথে দেশের সেবা করবেন।”
ফলাফল ঘোষণার পর উত্তীর্ণ প্রার্থীদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানায় জেলা পুলিশ। মাত্র ১২০ টাকায় মেধার ভিত্তিতে চাকরি পাওয়ার এই দৃষ্টান্ত সাধারণ মানুষের মাঝে পুলিশ প্রশাসনের প্রতি আস্থা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।